ব্রেকিং নিউজ

6/recent/ticker-posts

দেউচা- পাচামি প্রস্তাবিত কয়লাখনি নিয়ে ক্ষোভ আদিবাসীদের, জীবন দেব, কিন্তু কয়লাখনির জন্য জমি দেব না

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিউড়ি, ১৩ নভেম্বর ঃ জল, জঙ্গল, পাহাড় নিয়ে তাদের জীবিকা। এক কথায় এই প্রাকৃতিক সম্পদ তাদের কাছে মারাং বুরু অর্থাৎ দেবতা। তাই প্রস্তাবিত কয়লাখনি করতে দেবতার বুকের উপর জেসিবি মেশিন চালাতে দেবে না। প্রয়োজন জীবন দিয়ে প্রস্তাবিত কয়লাখনি রুখবেন তারা। পুলিশ বন্দুক চালালে পাল্টা তির ছুঁড়ে প্রতিবাদ করবে বীরভূমের মহম্মদ বাজার ব্লকের দেওচা কয়লাখনি এলাকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ।


কয়েক বছর আগেই দেউচা-পাঁচামি পাথর শিল্পাঞ্চলে কয়লার সন্ধান পায় কেন্দ্র। এরপর দীর্ঘদিন সার্ভে করে ওই এলাকায় উন্নতমানের কয়লা রয়েছে বলে ঘোষণা করে কেন্দ্র। সার্ভেতে দেখা যায় মহম্মদ বাজার ব্লকের দেওয়ানগঞ্জ এবং হরিণসিংহা দুটি মৌজার সাড়ে চার হাজার একর এলাকায় মাটির নিচে কয়লা রয়েছে। তার মধ্যে এক হাজার একর জায়গা খাস। বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেই কয়লাখনির দায়িত্ব দেওয়া হয় রাজ্য সরকারকে। দিন কয়েক আগে সরকার ওই এলাকার বাসিন্দাদের জন্য ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করে। কিন্তু সরকারের ওই প্যাকেজে খুশি নন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন। তার তাদের বাপঠাকুরদার ভিটেমাটি ছাড়তে নারাজ। কারণ সরকারের প্যাকেজে তাদের ভরসা নেই। তাছাড়া জল, জঙ্গল, পাহাড়ের সঙ্গে যাদের বসবাস তারা শহরে গিয়ে শ্বাস নিতে পারবেন না। তাই প্রশাসনের অনুরোধ তারা গ্রহণ করবেন না বলে পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন মথুরাপুর গ্রামের রূপলাল মুর্মু, মুন্সি বাস্কি, সুকুমনি হেমরমরা। রূপলাল বলেন, “আমরা যেমন ছিলাম তেমনই থাকতে চাই। সরকারের কোন প্যাকেজের প্রলোভনে পড়ে আমরা গ্রাম ছাড়ব না। গায়ের জোরে কয়লাখনি গড়তে হলে তার প্রতিবাদ করব। প্রয়োজনে জীবন দেব”।



ষাটোর্ধ মুন্সি বাস্কি বলেন, “আমরা এখানে পূর্বপুরুষ ধরে আছি। গ্রামে আমাদের পূর্বপুরুষদের সমাধি রয়েছে। রয়েছে আমাদের দেবতাস্থান। সেই দেবতার বুকের উপর জেসিবি চালাতে দেব না। সিধু–কানু ইংরেজদের বিরুদ্ধে জল জঙ্গলের অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করেছিল। আদিবাসীদের অধিকার রক্ষার লড়াই করে শহিদ হয়েছিলেন। সেই আন্দোলন ফের সংগঠিত করব আমরা”।



সুকুমনি বলেন, “আমরা জঙ্গলের পাতা ও ডাল কুরিয়ে রান্নার জ্বালানি করি। গরু, ছাগল, শুকর পালন করি ওই জঙ্গলের উপর ভরসা করেই। ফলে জঙ্গল ধ্বংস হলে আমরা অসহায় হয়ে যাব। কোথায় গরু চড়াব”?

হরিণসিংহা গ্রামের সুনীল মুর্মু বলেন, “সরকার কি করতে চাইছে সেটা আগে আদিবাসীদের মধ্যে প্রচার করুক। প্রতিটি গ্রামের আদিবাসীদের নিয়ে গনশুনানির ব্যবস্থা করুক। সরকারের প্যাকেজে আদিবাসী মানুষরা সন্তুষ্ট হলে তারা জায়গা দেবেন। সন্তুষ্ট না হলে দেবন না। কিন্তু গায়ের জোরে জমি দখল করতে দেওয়া হবে না। কারণ এর আগে বিভিন্ন জায়গায় শিল্প গড়তে গিয়ে আদিবাসীদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। সেই সমস্ত মানুষ গুলো পুনর্বাসন না পেয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে রাস্তায় রাস্তায়। তাদের কথা ভেবেই আদিবাসিরা গ্রাম ছাড়তে নারাজ”।


ধুমা মুর্মু বলেন, “সরকার বলছে চাকরি দেবে। একাকটি পরিবারে দু-তিনটি করে ছেলেমেয়ে। একজনকে চাকরি দিলে বাকিরা কি করবে। ফলে আমরা জমি ছাড়ব না। সরকার পুলিশ লেলিয়ে গুলি চালালে আমরাও তিরধনুক চালাব। আমরা আমাদের দেবতা মারাং বুরুকে রক্ষা করবই”।




দেউচা -পাচামি কয়লা খনি প্রকল্প নিয়ে অনুব্রত মণ্ডল বলেন, কেন্দ্র সরকার যা পারেনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা করে দেখিয়েছেন। ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।ওখানকার মানুষ ভীষণভাবে সন্তুষ্ট প্যাকেজ নিয়ে। কোনরকম মতবিরোধ আছে বলে আমার জানা নেই। মানুষ আনন্দের সঙ্গে প্রস্তাবিত কয়লা খনি প্রকল্প কে স্বাগত জানিয়েছে।

Post a Comment

0 Comments